নাথগুরু আদিনাথ

মৎসেন্দ্রনাথের গুরু আদিনাথ।জৈনদের আদি তীর্থঙ্কর তিনি ও আদিনাথ। আবার বৌদ্ধদের ও আদি যে তিনি ও আদিনাথ । কিন্তু সকলে আলাদা আলাদা। জৈন বৌদ্ধ রা নিরীশ্বরবাদী। নাথরা ঈশ্বর বাদী। নাথরা নিরঞ্জ নিরাকার কেই আদিগুরু মনে করেন। আচার্য আদিনাথ থেকে এই নিরঞ্জন নিরাকার ছয় পুরুষ উপরে।
আদিনাথ , আলোক নাথ বা অলখনাথ ও কলা নিরঞ্জন নামে পরিচিত । আদিনাথের আগে থেকেই আদিনাথ ছিল। যখন থেকে সৃষ্টি র পতন হয় তখন থেকে ই তিনি আদিনাথ। ভগবান দত্তাত্রের নাথ আদিনাথকে শিব বলেছেন। চট্টগ্রামে মহেশখালী তবে মে আদিনাথ পূজিত হন। তিনি ও শিব।
পরমেশ্বর শিবের আরেকরূপ আদিনাথ।মহাযোগেশ্বর আদিনাথ শিব হল সমগ্ৰ নাথ ধর্ম ও নাথ সাহিত্যের প্রান পুরুষ। উনাকে কেন্দ্র করেই নাথধর্ম ও যোগধর্ম সৃষ্টি।
মহাযোগী গোরক্ষনাথ রচনা তে ” গোরক্ষ পদ্ধতি ” –
আদিনাথ শিবের মুখ কমল থেকে যোগশাস্ত্র বের হয়।এই যোগ প্রতিদিন পাঠ করা দরকার।তা পাঠ করলে আর কোন শাস্ত্র পাঠ করার প্রয়োজন নেই।
হঠযোগ প্রদীপিকা গ্ৰন্থে বলা হয়েছে আদিনাথ শিবনাথ সকলের প্রথমনাথ। তাঁর থেকে সম্প্রদায় সৃস্টি । আবার মহাযোগী গোরক্ষনাথ তাঁর রচিত বিখ্যাত উক্তি ” সিদ্ধ সিদ্ধান্ত পদ্ধতি ” মঙ্গলাচরনে আদিনাথ শিবকে এরূপভাবে বন্দনা করেছেন –
শক্তিযুক্ত জগৎ গুরু আদিনাথকে নমস্কার করে আমি গোরক্ষনাথ।
যোগবীজ গ্ৰন্থে দেবী পার্বতী ভগবান শঙ্করকে প্রথমেই আদিনাথ রুপে বন্দনা করেছেন-নাথ গুরু যোগী গোরক্ষনাথ মৎস্য ন্দ্রনাথের পুত্র অথাৎ শিষ্য আর আদিনথের নাতি অথাৎ শিষ্যের শিষ্য।
কোলকাতার সংস্কৃত কলেজে র ভূতপূর্ব অধ্যাপক ব্রাক্ষ্মণ কুলতীলক ভরতচন্দ্র শিরোমনী ভট্টাচার্য রচিত ” আগম সংহিতার “তে বলেছেন দেবী পার্বতী ভগবান মহাদেব কে বলেছেন “যোগী দের মাতা – পিতাকে ? কীভাবে জন্ম হল তা বলুন তখন দেবীর প্রশ্নের উত্তরে বললেন ,
ঈশ্বর থেকে যোগধর্ম পরায়ন একাদশ রুদ্রের জন্ম হয়। প্রথম রুদ্রের নাম মহান, তাঁর পুত্রের বিন্দুনাথ। বিন্দুনাথের পুত্র আদিনাথ বা আইনাথ। তিনি রুদ্রকুলের প্রকাশক।
মসেন্দ্রনাথের “যোগবিয়োগ ” গ্ৰন্থে বলা হয়েছে তিনি গুরু আদিনাথের শিষ্য।
সাদক প্রেমদাস তাঁর রচিত গ্ৰন্থে ” নাথ সিদ্ধাকো বণিকা ” য় বলেছেন মসেন্দ্রনাথ ও গোরক্ষনাথ সহ আদিনাথের বন্দনা ও রয়েছে।
বিভিন্ন লেখকের বই থেকে বুঝা যায় যে নাথযোগীর আদিপুরুষ আদিনাথ। তিনি ই নাথ সম্প্রদায়ের সৃষ্টি কর্তা । তিনি ই যোগ ধর্মএবং যোগশাস্ত্রের সৃষ্টি কর্তা । তিনি ই যোগীশ্বর শিব।
আদিনাথ সময়কাল হল “দত্তাত্রেয় নাথের বহু আগে নাথ গুরু আদিনাথের আবির্ভাব। মৎসেন্দ্র নাথের গুরু হয়েছে আদিনাথ।রাজগুরু যোগীবংশ ব ইয়ের উল্লেখ রয়েছে মসেন্দ্রনাথের সময়কাল ৫২২খৃ:।
আদিনাথ বাঙ্গালী সাধক। বাংলাদেশে জন্ম । নাথ গুরু মহাসাধক যোগী আদিনাথ শিবাবতার রূপে সর্বত্র পূজিত হন। গুজরাটের বরোদার কাছে দর্ভাবতী কাছে সিদ্ধাগনের মূর্তি সাথে আদিনাথের মূর্তি পূজা করা হয়।
আদিনাথেরর উপর প্রচলিত গান হল –
আদিনাথের আদিনাথ ।আদিনাথের দিলা বর।
এই ঘর সুবর্ণ ঘর।
সুবর্ণ ঘরে তুলেছে মাটি।
এই ঘর হয়েছে কুমার হাটি। কুমার হাটির কুমার ভাই। তোমার লাগাল কেমনে পাই। গাঙ্গের ই পারে পারে।
ডলু ডলু কাঞ্চন।
কাঞ্চনে গুয়া খায়।
কাঞ্চনে পান খায়।
উঠ লাগল চুন।
ফাল দিয়া উঠে বর ইর ঝুনট।
বর ই নারে কেরাইয়া।
হাত ল ইনু পোরাইয়া।
ও ভাই সদাগর।
সোনার টুপি মাথে ধর। সোনার টুপী লোহার খিল। এন ঘর আছে ধান বিশ ।
ধান বিশ না দিলে পারে। ডাউন কড়ি দিয়া বিদায় করে। তিননাথ বা ত্রিনাথ ও নবনাথ বা নয় নাথগণ।এই তিননাথ এবং নবনাথের প্রথম জন ই হলেন শিবাবতার গুরু আদিনাথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *