প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য সফর তাৎপর্যপূর্ণ

সং বাদদাতা ।। ৩১ডিসেম্বর।।


আগামী ৪ জানুয়ারি দুপুরে রাজ্য সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আগতলাস্থিত মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর বিমান বন্দর নব নির্মিত টার্মিনাল ভবনের শুভ দারোদ্ঘাটন করবেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় আস্তাবল তথা স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে বি জে পি আয়োজিত জনসভায় রাজ্য বাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন। রাজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশকিছু প্রকল্পের সূচনা করবেন তিনি। রাজ্য সফর ঘিরে প্রশাসনিক পর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
রাজ্য বিজেপি জনসমাবেশকে সফল করতে দলীয় নেতৃবৃন্দ রাজ্যব্যাপি প্রচারাভিযান শুরু করেছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি বা মার্চ এ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন । নির্বাচনে র আর মাত্র এক বছর বাকি।এই সময়ে তিনি শুধু বিমান বন্দরের টার্মিনাল উদ্বোধন করতে আসছেন ?তা নয়। তিনি দলের সাংগঠনিক অবস্থা কোন পর্যায়ে রয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর সেই সম্পর্কে পুংখানুপুঙ্খ ভাবে দলের অবস্থান জানতে তিনি নিজে আসছেন। রাজ্য বি জে পি র মধ্যে গোষ্ঠী বাজী সর্ম্পকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সবকিছু অবগত। রাজ্যে দলের একাংশ নেতৃবৃন্দ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের সভাপতি কে এই পদে বসিয়ে রেখে কাজ করতে রাজি নয়। গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে তিনজন বিধায়ক কে মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়া র পর ও মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী গোষ্ঠী কে নিয়ন্ত্রনে আনতে রাজ্য নেতৃত্ব পারে নি
সম্প্রতি হয়ে যাওয়া পুর পরিষদ নির্বাচনে দল সবকয়টিতে জয়লাভ করেছে।সে সম্পর্কে ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবগত।পুর নির্বাচনে র ভোট গ্রহণ আগ মুহূর্তে বিরোধী গোষ্ঠী নেতা গন প্রকাশ্যে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তারপরও দল বিরোধী কাজের জন্য বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী র বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এখন ও পারে নি। গোষ্ঠী কোন্দল থামিয়ে রাখতে বারংবার রাজ্যের দায়িত্ব প্রাপ্ত পর্য্যবেক্ষকগন রাজ্যে ছুটে আসেন। দলের গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে পারে নি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয় টি কে গড়িয়ে বিধানসভা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছে।
প্রধান মন্ত্রী সফর করে বুঝতে পারেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কে পদে রেখে রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরে আসা সম্ভব নয়। তাহলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে পদে থেকে হটিয়ে দিতে এক মুহুর্ত চিন্তা করবে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নতুন মুখ তুলে এনে মুখ্যমন্ত্রী র পদে বসিয়ে দেয়া হবে। নতুন মুখ তুলে এনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পুনরায় রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরে আসতে কোন ধরনের কার্পন্য করবে না। নির্বাচনের ছয় মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তাকে হটিয়ে নতুন কাউকে বসানো হয় তাতে সমস্যা হতে পারে। বিধায়ক ছাড়া অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করলে সে ক্ষেত্রে উপনির্বাচনে র প্রয়োজন ।।
দেশের বি জে পি শাসিত বহু রাজ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বুঝতে পেরেছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বা দলের সভাপতি কে বসিয়ে রেখে নির্বাচনে পুনরায় জিতে ক্ষমতায় ফিরে আসা সম্ভব নয়। তখন ই দল কাল বিলম্ব না করে মুখ্যমন্ত্রীকে হটিয়েছে।এমন নজির রয়েছে। প্রধান মন্ত্রী রাজ্য সফর শেষে কেন্দ্রে ফিরে যাবার পর বোঝা যাবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কোন পথে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য অগ্ৰসর হচ্ছে ।


অপরদিকে প্রধান মন্ত্রী রাজ্য সফরকালে বুঝতে পারেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সভাপতি র নেতৃত্বে পুনরায় নির্বাচনে জিতে এসে সরকার গঠন করা সম্ভব । তাহলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী র নির্দেশ পাওয়া মাত্র বিক্ষুব্ধ। গোষ্ঠী বিধায়ক সহ বহু নেতৃত্বকে দল থেকে বহিষ্কার করতে কাল বিলম্ব করবে না।
অতিতে দলের ভেতরে জাতীয় এবং রাজ্য পর্যায়ের বহু দাপটে নেতা কে দল বিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করার নজির রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *