লিপি বিতর্কে ৪৪ বছর অতিক্রান্ত ককবরক ভাষা

সং বাদদাতা।। ১৮ জানুয়ারি।।

ভাষা লিপি এবং সরকার স্বীকৃত দিবস নিয়ে আজো বির্তক ককবরক ভাষা ভাষিদের মধ্যে ৪৪ বছর যাবৎ অমিমাংসিত । সাধারণ মানুষের অভিযোগ রাজনৈতিক দল গুলো হস্তক্ষেপেই জনজাতিদের মাতৃভাষা ককবরক ভাষা লিপি আজ ও সরকারি স্বীকৃতি লাভ করতে পারে নি।লিপি বিতর্কে মধ্যে দিয়ে মহাবিদ্যালয় পর্যায়ে ককবরকে ভাষা শিক্ষাদানের কাজ চলছে। কবে নাগাদ এর মীমাংসা হবে এখনই হলফ করে বলা সম্ভব নয়।রাজ্যে বি জে পি ও আই পি এফ টি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি জনজাতি বিধায়ক দের একাংশ দেবনাগরী হরফে ককবরক হরফ করার দাবি জানান।দেবনাগরি হরফ গ্ৰহন করা হলে সহজে সং বিধানের অষ্টম তফশিল অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হবে। এই সংবাদ প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসার পর জনজাতিদের মধ্যে বিলোপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় । বিষয় টি অনুমান করতে পেরে বিজেপি বিধায়কগন পিছু হটতে বাধ্য হয়।উল্লেখ্য ১৯৭৯ সালে ১৯ জানুয়ারি ককবরক ভাষা কে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছিল। বামফ্রন্ট সরকার সরকারি ভাষা হিসেবে স্বিকৃতী দেয়ার পর থেকে প্রতিবছর মর্যাদার সাথে দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বাংলা হরফে ককবরক ভাষা চর্চা করা হয়। জনজাতিদের আঞ্চলিক দল এবং ডানপন্থী রাজনৈতিক দল গুলো রোমান হরফে ককবরক ভাষা লিপির পক্ষে মত দান করেন।১৯৯৪সালে এ ডি সিতে কংগ্রেস উপজাতি যুব সমিতির জোট প্রশাসন। সেসময় জনজাতি নেতা শ্যামাচরণ ত্রিপুরা নেতৃত্বে ককবরক ভাষা কমিশন গঠন করা হয়।শ্রীত্রিপুরা কমিশন রাজ্য সরকারের কাছে রোমান হরফ চালু করতে প্রস্তাব করেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার তা মেনে নেয় নি। পরবর্তী সময়ে বামফ্রন্ট সরকার কলকাতার বিশিষ্ট সাহিত্যিক পবিত্র সরকার নেতৃত্বে ভাষা কমিশন ২০০৪ সালে গঠন করেছিল ।সেকমিটিতে সদস্য হিসেবে বিশিষ্ট ভাষা বিদ কুমুদ কুন্ড চৌধুরী,সহ আরো ছিল। কমিটি রাজ্যের ব্লক থেকে রাজ্য স্তর, ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন এন জি ও সহ সকলের মতামত গ্রহণ করেছিল। নিরপেক্ষ রিপোর্ট শ্রীসরকার২০০৫ সালের ৫ আগষ্ট রাজ্য বিধানসভা য় পেশ করেন। সেই রিপোর্টে র সমীক্ষা য় দেখা গেছে ৬৭.৭ শতাংশ রোমান হরফে ককবরক ভাষা পক্ষে মত দিয়েছে ।২০ শতাংশ বাংলা হরফে এবং বাকীরা কোন মতামত দেয় নি। তৎকালীন রাজ্য সরকার সেই রিপোর্ট প্রকাশ করে নি বলে এডিসির চেয়ারম্যান জগদীশ দেববর্মা একথা বলেন। তিনি আরো বলেন তৎকালীন সরকার রিপোর্ট ফাইল চাপা দিয়ে রেখে দিয়েছি ল ।তাতে করে ককবরক ভাষা লিপি আজ ও স্তির হয় নি।অথচ রাজ্য সরকার বাংলালিপির মাধ্যমে ককবরক ভাষা মহাবিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা চালু করেছে। লিপি বিতর্ক মধ্য দিয়ে এই ভাষা বাসীর সাহিত্য চর্চা অব্যাহত রয়েছে ।চর্চা র অভাবে বহু ভাষার লিপি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। ভাষার উন্নয়নে যুব সমাজ কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফশিল অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানান তিনি।বিশিষ্ট ককবরক সাহিত্যিক নন্দকুমার দেবর্বমা বলেন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের শিক্ষা মন্ত্রী দশরথ দেব বিধানসভা ককবরক ভাষা কে সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ১৭ জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে বিল পেশ করেছিল। সেই দিন ই বিলটি ধ্বনি ভোটে বিলটি সভায় অনুমোদন লাভ করেছিল। তাহলে রাজ্য সরকার কিসের জন্য ১৯জানুয়ারি ১৯৭৯সাল কে সরকারি স্বীকৃতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। সঠিক ইতিহাস জনগণের কাছে তোলে ধরা র দাবি জানান তিনি।আজ রাজ্যের জনজাতি দের আটটি সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ককবরক।অন্যা্ন্য জনজাতিদের মাতৃভাষা আলাদা আলাদা রয়েছে। মাতৃভাষা উন্নয়নে রাজ্য ও এ ডি সি যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।এডিসিতে বিভিন্ন জনজাতিগোষ্টীর বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রচুর বই প্রকাশ করা হয়েছে।থারটিন ফিনান্স কমিশন ককবরক ভাষা উন্নয়নে র জন্য দশকোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। বর্তমান এ ডিসি প্রশাসন ককবরক ভাষা উন্নয়নে র জন্য সাড়ে ছয় কোটি টাকা প্রজেক্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দীয়েছে। ককবরক ভাষা উন্নয়নে র সাথে সাথে অন্যান্ন জনজাতিদের মাতৃভাষা উন্নয়নে র ও দাবি উঠেছে।

ককবরক সাহিত্য সভায় এ ডি সি চেয়ারম্যান জগদীশ দেববর্মা

Leave a Comment

Your email address will not be published.