নয় নাথ বা নব নাথ বিত্তান্ত

(৫ ম শতাব্দী থেকে ১২তম শতাব্দী পর্যন্ত )

আর্যদের পবিত্রস্থান হিমালয়।আর্যদের আদি দেবতা শিব। তিনি হিমালয়ের কৈলাসে বাস করেন।
যোগী , সন্ন্যাসীগন হিমালয়ের নির্জনগুহাতে প্রাচীন কাল থেকেই তপস্যা ,ধ্যান করে আসছেন।ব্রক্ষার সৃষ্টি মানস সরোবর।মানস এবং কৈলাস উত্তর ভারতে অবস্থিত। আজ ও সন্ন্যাসী যোগী,সাধু সেখানে ছুটে যান। পূর্ণ তীর্থস্থান।প্রবাদ আছে নয় নাথ বা নব নাথ যমদন্ড হিমালয়ের বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করেছে।এরা কঠোর সাধনায় সিদ্ধিলাভ করে শিবাবতার রূপে খ্যাতি লাভ করেন। প্রাচীন কাল থেকে এদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে পূজা অর্চনা করে আসা হচ্ছে। বিশ্বাস ভক্তিভরে এদের কাছে প্রার্থণা করলে ভক্তদের মনষকামনা পূর্ণ হয়।
নাথ বা যোগী সম্প্রদায় পরমব্রক্ষ নিরাকার নিরঞ্জন শিবকে ” নাথ ” বলে থাকেন। এবং নাথের উপাসনা করে। এই জন্য নাথেরা শিবের উপাসক । শিবের নামের শেষে নাথ শব্দ যুক্ত রয়েছে। যেমন -অমরনাথ, তারকার, কেদারনাথ,পশুপতিনাথ, বৈদ্যনাথ , রামনাথ ইত্যাদি। নাথ সাধকগন সিদ্ধি স্থিতি প্রলয়ের মধ্যে বিলীন হয়ে নাথ সাধনায় সিদ্ধি লাভ করাকেই নাথাবস্থা বলেন।তাই সাধনার চরম পর্যায়।

Mr.J C Oman লেখা ” My stics Ascetics and saints of India ” ব ইয়ের ১৮৫ পৃষ্টায় নব নাথ দের দিয়েছে ন। এরা হলেন গোরক্ষনাথ, মৎস্যেন্দ্রনাথ , চপটনাথ ,মঙ্গলনাথ ,ঘুগানাথ,গোপীরথ, প্রেমনাথ ,সুরথনাথ এবং চন্দ্রানাথ।
অধ্যাপক অমূল্য চরণ বিদ্যাভূষণ নাথপন্থ প্রবন্ধে বলেন নাথদের বিশ্বাস , গোরক্ষ অনাদি অনন্ত পুরুষ। তার ইচ্ছায় ব্রক্ষা , বিষ্ণু এবং মহাদেবের জন্ম হয়। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারেন। গোরক্ষপন্থীদের মতে নবনাথেরা হলেন একধার , আদিনাথ, মৎস্যেন্দ্রনাথ, উদয়নাথ , দত্তনাথ, সত্যনাথ, সন্তোষনাথ,কুথনাথ এবংজলন্ধর নাথ ।
Light on the path of self Realisation by N V Gunaji ব ইয়ের নব নাথ হল মৎস্যেন্দ্রনাথ, চপটনাথ, গহিণীনাথ ।

ড. সুকুমার বের হন সেন বলেন -নিরঞ্জনের নাভি থেকে মীননাথ, মৎস্যেন্দ্রনাথ ললাট (কপাল) থেকে গোরক্ষনাথ, ষড় থেকে হাড়ি পা , কর্ণরন্ধ থেকে কানুপা, চরণ থেকে চৌরঙ্গী নাথ । এরা হলেন আদিনাথ।
ড.কল্যানী মল্লিক বলেন ” আদিনাথ, উদয়নাথ, সত্যনাথ, সন্তোষ নাথ, গজকর্ণ,অওঘোর, মচ্ছেন্দ্র, চেরঙ্গ, গোরক্ষ, এই নবনাথ তালিকা ।বা মৎস্যেন্দ্রনাথ, গোরক্ষ, চপট, মঙ্গল, ঘুগো, প্রাণ সুরত, ও চম্ভা এটাও নব নাথ।
১৭৯২ খৃষ্টাব্দ১৪আগষ্ট মি: জোনাথান ডানটান বলেন – আমি ছোট বড় লামার দেশ যেখানে।তিশু লামা বাস করেন। সেখানে আমি গিয়েছি। মানষসরোবর থেকে সেখানে যেতে ১৭ লেগেছে।সেটা খুবই দুর্গম তর জায়গা। সেখানে মহাদেব, ত্রিলোকনাথজী, নয়নাথ, চৌরাশী সিদ্ধা ডেব্বি বা রন্ধনের স্থান রয়েছে। সেই ডেব্বির মধ্যে কেউ যদি সিদ্ধার নামে একখানা বা যত ইচ্ছে রুটি ফেলে দেন। সেই রুটি টি চুলার নীচ থেকে ভেজে উপরে চলে আসে। আমি নিজে দেখেছি। ” আমাদের প্রধান তিন নাথ হলেন -আদিনাথ, মৎস্যেন্দ্রনাথ এবং গোরক্ষনাথ ।
সুত্র – নাথ সিদ্ধাদের জীবন কাহিনী।

Leave a Comment

Your email address will not be published.